ফেসবুকে হঠাৎ ই তার সাথে পরিচয়। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট টা অবশ্য সেই দিয়েছিলো । দেখতে ভালো ছিলো বলে চট করে একসেপ্ট ও করে নিলাম। সে ফাস্ট ম্যাসেজ দিয়েই সালাম দিয়েছিলো আমায়। বেশ ভালোই লাগল , টুকটাক কথা ও হলো। জানলাম আমার থেকে প্রায় শ কিলোমিটার দূরে তার বাস। তার পর থেকে সে আমায় আর কখনো ম্যাসেজ দেয় নি। কিন্তু আমার আগ্রহ টা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছিলো। তার প্রোফাইল চেইক করা , স্টোরি দেখা হয়ে গেল নিয়মিত একটা অভ্যাস। অবশ্য সে ও আমার স্টোরি দেখতো । তবে কখনো রিয়েক্ট দেয় নি। সময় যেতে লাগলো কর্ণপাতে। হঠাৎ একটা সময় অনুভব করলাম তাকে আমি ভালোবাসি। কি আশ্চর্য এতো তাড়াতাড়ি বুঝি ভালোবাসা হয় ? দেখতে দেখতে কেঁটে গেল কিছু দিন সে ম্যাসেজ দিলো নাহ। আমি দেখতে খুব সুন্দরী নই । উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রঙ, ছোট ছোট চোখ , নাক টা ও আবার বোচা চুল গুলো কোমর এ পৌছায় নি, খানিকটা স্বাস্থ্য ও ছিলো, লম্বায় 5'3। হা হা কি অস্বাভাবিক বিষয়, আর সে দেখতে বিদেশীদের মতো ফর্সা , গাঢ় পার্সোনালিটি, রোগা পাতলা , লম্বায় 5'10, দেখতে নায়ক দের ই মতো । সব মিলিয়ে ভালোবাসার কথা টা বলবো কি করে ? ভাবলাম সময় তো বহু আছে , আমি তার যোগ্য হয়েই বলব। ইচ্ছে গুলো ডানা মেলে উড়তে লাগলো। এক সাথে চন্দ্রবিলাশ করার ভয়ঙ্কর বাসনা ও হলো। দিন চলছে কিন্তু আমার কদাচিত রূপের পরিবর্তন হচ্ছে না। অন্য দিকে সে কখনো খোঁজ ও নেয় নাহহ। আমার ও আবার খানিকটা ইগো আছে। আমি ও খোঁজ নিলাম নাহহ। তবে মনের সাথে পেরে না উঠতে পেরে ফেইক আইডিটি দিয়ে ওনাকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিলাম। ঐ আইডিতে টুক টাক কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলাম। বুঝলাম ওনি তেমন আগ্রহী নন। আবার মন খারাপ শুরু হলো। রাত ভর ঘুম হতো নাহহ , সারাক্ষণ তাকেই ভাবতাম। রূপবতী নই বিধায় তাকে ভালোবাসি বলতে পাচ্ছি নাহ। এ যন্ত্রণা রূপহীন নারীরাই বুঝে। রূপের জন্য মাঝে সাঝে লোক মুখে টিটকারি ও শোনা যায়। দিন যায় দিন আসে তাকে ভালোবাসি বলা আর হয় নাহ। কেঁটে যায় কয়েকটা যন্ত্রণা ময় মাস। এক সন্ধ্যায় হলুদ আলো ফেলে সূর্য যখন নিভু নিভু হচ্ছিলো তখনি আমার ছোট্ট হৃদয় টা থমকে গেল। স্টোরি তে কোনো এক মেয়েলি নাম কে মেনশন দিয়েছে জিসান। মেয়েটা যে তার গার্লফ্রেন্ড। বুক টা ঝলসে যাচ্ছিলো আমার। আম্মু যখন পেছন থেকে বলল _ এই প্রিয়া কাঁপছিস কেন মা ? শরীর খারাপ লাগছে , আম্মু কে কিছু বলতে পারলাম না আমি। দু হাতে জড়িয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলাম। আম্মু টেনে নিয়ে বেডে শুইয়ে দিলো। অনুভূতি গুলো ফিকে হয়ে গেল। আজ রূপ নেই বলে হেরে গেলাম আমি। ইচ্ছে রা সব ফিকে হয়ে গেল । অপেক্ষা প্রহর গুনলাম ঠিক ই। কিন্তু ভুলেই গিয়েছিলাম রূপের মতো গুন না থাকার কারনে জীবনের বহু ইচ্ছে অপূর্ণ থেকে যায়। দিন পেরুতে থাকে আর আমার কষ্ট গুলো ও বাড়তে থাকে। শুরু হয় ফেসবুকে দীর্ঘশ্বাস মেশানো স্ট্যাটাস। এক মধ্য রাতে স্টোরি চেইক করে দেখি জিসান হা হা দিয়েছে। ম্যাসেজ দেওয়ার মতো কার্য আমি করতে পারলাম নাহহ। মন খারাপ করে তাকে মেনশন দিয়ে স্টোরি তে দিলাম হা হা দেওয়ার কারন কি ? কয়েক মুহূর্তের মাঝে ম্যাসেজ এলো _আপনার আবেগ দেখে একটু হাসি পাইলো। আমি কিছু বললাম নাহহ। শুধু বুক চিরে বের হয়ে আসলো দীর্ঘশ্বাস ঝলমলে মলিন হাসি । রূপবতী নই যে আমি , আমার মিষ্টি কথা গুলো ও সবার কাছে তেতো । আবেগ গুলো যাকে ঘিরে সে ও তা নিয়ে ঠাট্টা করছে। কিছু ইচ্ছে বোধহয় বেড়াজালেই আটকে যায়। আমার আর ইচ্ছে হয় না রূপবতী হওয়ার। কারন আমার এ ইচ্ছের বেড়াজাল সৃষ্টিকর্তা জন্ম থেকেই দিয়েছেন। _রূপহীন
0 মন্তব্যসমূহ